IMEI কী? IMEI ছাড়া ফোন চলবে কি? জানুন বাংলাদেশে IMEI রেজিস্ট্রেশন ও আইনগত তথ্য

IMEI কী এবং IMEI ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যায় কি না—এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানুন। বাংলাদেশে IMEI রেজিস্ট্রেশন, ব্লক হওয়ার কারণ, নকল IMEI ফোনের ঝুঁকি ও আইনগত নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এক জায়গায়।

আপনারা যারা IMEI কী এবং IMEI ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যায় কি না, এই বিষয়ে জানতে চান তাদের জন্য আজকের এই প্রবন্ধটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি সময় করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে পড়ুন।

IMEI কী? IMEI ছাড়া ফোন চলবে কি? বিস্তারিত তথ্য জানুন

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু, আমাদের অনেক ব্যবহারকারী আছেন, যারা এখনও জানেন না IMEI কী এবং এটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ।

আর IMEI (International Mobile Equipment Identity) হলো প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি ইউনিক পরিচয় নম্বর, যার মাধ্যমে ফোনটি বৈধ না অবৈধ তা শনাক্ত করা যায়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে IMEI রেজিস্ট্রেশন চালু হওয়ার পর থেকে IMEI ছাড়া বা নকল IMEI ব্যবহার করা ফোন ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। 

অনেকেই প্রশ্ন করেন—IMEI ছাড়া ফোন কি চলবে, নাকি সিম কাজ করবে না? এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় জানবো IMEI কী, IMEI ছাড়া ফোন ব্যবহারের ঝুঁকি, আইনগত দিক এবং কীভাবে নিরাপদে বৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যায়।

IMEI কী এবং এটি কেন প্রয়োজন?

IMEI কী?

IMEI (International Mobile Equipment Identity) হলো প্রতিটি মোবাইল ফোনের জন্য নির্ধারিত একটি ১৫ সংখ্যার ইউনিক পরিচয় নম্বর। আর এই নম্বরের মাধ্যমেই মোবাইল ফোনকে নেটওয়ার্কে শনাক্ত করা হয়।

IMEI কেন প্রয়োজন?

  • মোবাইল নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণের জন্য- IMEI নম্বরের মাধ্যমে টেলিকম অপারেটর বুঝতে পারে কোন ফোনটি নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে। 
  • চুরি বা হারানো ফোন ব্লক করার জন্য- ফোন হারিয়ে গেলে IMEI ব্যবহার করে ফোনটি সহজে ব্লক করা সম্ভব।
  • নকল ও অবৈধ ফোন শনাক্ত করার জন্য- ডুপ্লিকেট বা অবৈধ ফোন শনাক্ত করে নেটওয়ার্ক থেকে বন্ধ করা যায়। 
  • নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে- নেটওয়ার্কের অপব্যবহার রোধে IMEI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
  • আইনগত ও সরকারি নিয়ম মেনে ফোন ব্যবহারের জন্য- বাংলাদেশে BTRC-এর নিয়ম অনুযায়ী বৈধভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে IMEI প্রয়োজন।

কিভাবে চুরি বা হারানো ফোন ব্লক করতে হয়

চুরি বা হারানো ফোন ব্লক করতে IMEI খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি কোনো কারণে আপনার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়, তাহলে সেই ফোনের IMEI নম্বর ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফোনটি নেটওয়ার্ক থেকে বন্ধ করে দিতে পারে। 

এর ফলে চোর বা অন্য কেউ ওই ফোনে সিম ব্যবহার করে কল করা, এসএমএস পাঠানো বা মোবাইল ইন্টারনেট চালাতে পারে না। এতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে এবং ফোনের অপব্যবহার কমে যায়।

আপনার মোবাইল ফোন IMEI ব্লক করা থাকলে ফোনটি পুনরায় বিক্রি করা বা অন্য সিম দিয়ে চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে, যা চুরি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

IMEI ছাড়া ফোনে কী কী সমস্যা হয়?

IMEI ছাড়া ফোন ব্যবহার করলে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রথমত, এ ধরনের ফোনে সিম কার্ড ঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে কল করা, কল রিসিভ করা, এসএমএস পাঠানো বা মোবাইল ডাটা ব্যবহার করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

অনেক সময় শুরুতে নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও কিছুদিন পর অপারেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনটি নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। দ্বিতীয়ত, IMEI না থাকায় ফোনটি অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে এবং যে কোনো সময় স্থায়ীভাবে ব্লক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

তৃতীয়ত, ফোন হারিয়ে গেলে সেটি ট্র্যাক বা ব্লক করা সম্ভব হয় না, ফলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির আশঙ্কা বেড়ে যায়। 

এছাড়া ভবিষ্যতে ফোন বিক্রি করা, সার্ভিস সেন্টার থেকে সহায়তা নেওয়া বা সফটওয়্যার আপডেট সংক্রান্ত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই, IMEI ছাড়া ফোন ব্যবহার করা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ নয় এবং ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

WiFi দিয়ে কি IMEI ছাড়া ফোন চালানো যাবে?

WiFi ব্যবহার করে IMEI ছাড়া ফোন চালানো সম্ভব হলেও এটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর বা সুবিধাজনক নয়। যেহেতু WiFi ইন্টারনেট মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তাই IMEI না থাকলেও ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইউটিউব দেখা, ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অনলাইন অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। 

অনলাইন ক্লাস করা, ভিডিও কল করা বা ইমেইল চেক করাও সম্ভব। তবে এখানে বড় সীমাবদ্ধতা হলো- সিম কার্ডভিত্তিক কোনো সেবা ব্যবহার করা যায় না। অর্থাৎ কল করা, কল রিসিভ করা, এসএমএস পাঠানো কিংবা মোবাইল ডাটা চালানো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। 

এছাড়া, WiFi সব জায়গায় সহজে পাওয়া যায় না, বাইরে বের হলে ফোন প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই, শুধু WiFi দিয়ে IMEI ছাড়া ফোন ব্যবহার করা সাময়িক সমাধান হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি বাস্তবসম্মত নয়।

বিদেশ থেকে আনা ফোনে IMEI না থাকলে কী হবে

বিদেশ থেকে আনা কোনো মোবাইল ফোনে যদি বৈধ IMEI না থাকে বা IMEI নম্বর রেজিস্ট্রেশন করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশে সেই ফোন ব্যবহার করা ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন ফোনটি দেশে আনার পর প্রথম কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ সিম কার্ড ঠিকভাবে কাজ করে।

এতেকরে ব্যবহারকারী ভুল ধারণা পেতে পারেন যে ফোনটি সমস্যা ছাড়াই চলবে। কিন্তু বাস্তবে মোবাইল অপারেটররা নিয়মিতভাবে IMEI যাচাই করে এবং যেসব ফোনের IMEI সিস্টেমে নিবন্ধিত নয়, সেগুলো নির্দিষ্ট সময় পর নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 

এর ফলে ফোনে কল করা, কল রিসিভ করা, এসএমএস পাঠানো এবং মোবাইল ডাটা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তখন ফোনটি কেবল WiFi ব্যবহারযোগ্য একটি ডিভাইসে পরিণত হয়।

এছাড়া IMEI না থাকলে বা ডুপ্লিকেট হলে ফোনটি অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে ব্লক হওয়ার কারণ হতে পারে। 

এমন অবস্থায় পরে IMEI রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে কাস্টমস ডিক্লারেশন, কেনার রসিদসহ বিভিন্ন কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় এবং অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। 

তাই, বিদেশ থেকে আনা ফোন নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে চাইলে শুরুতেই IMEI বৈধ ও রেজিস্ট্রেশন করা আছে কি না তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ডুপ্লিকেট বা নকল IMEI ফোনের ঝুঁকি?

ডুপ্লিকেট বা নকল IMEI যুক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিরাপদ এ ধরনের ফোনে সাধারণত অন্য একটি বৈধ ফোনের IMEI কপি করে ব্যবহার করা হয়, যার ফলে একই IMEI নম্বর একাধিক ডিভাইসে সক্রিয় থাকে। 

টেলিকম অপারেটর বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা যখন বিষয়টি শনাক্ত করে, তখন কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট ফোনগুলো নেটওয়ার্ক থেকে ব্লক করে দিতে পারে। এতে হঠাৎ করেই কল, এসএমএস ও মোবাইল ডাটা বন্ধ হয়ে যায়। 

ডুপ্লিকেট IMEI থাকলে ফোন হারানো বা চুরি হলে সেটি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে, কারণ এসব ফোনে প্রায়ই অননুমোদিত সফটওয়্যার বা পরিবর্তিত সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। 

ভবিষ্যতে এমন ফোন বিক্রি করা, সার্ভিস সেন্টারে মেরামত করানো বা অফিসিয়াল আপডেট নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতার মুখে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই কম দামে লোভে পড়ে ডুপ্লিকেট বা নকল IMEI‑যুক্ত ফোন কেনা থেকে বিরত থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

কিভাবে IMEI রেজিস্ট্রেশন করা যাবে?

IMEI রেজিস্ট্রেশন করার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ, তবে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি বাংলাদেশে বৈধভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হলে ফোনের IMEI নম্বর BTRC‑এর সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হয়। প্রথমে ফোনে *#06# ডায়াল করে IMEI নম্বর দেখে নিতে হবে। 

এরপর BTRC নির্ধারিত অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হয়। সেখানে সাধারণত ফোনের IMEI নম্বর, ব্যবহারকারীর কিছু ব্যক্তিগত তথ্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কেনার রসিদ বা কাস্টমস সংক্রান্ত তথ্য দিতে হতে পারে। 

আর যারা বিদেশ থেকে ফোন এনেছেন, তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট তথ্য ও কাস্টমস ডিক্লারেশন দরকার হতে পারে। সব তথ্য সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পর আবেদন যাচাই করা হয়। যাচাই সম্পন্ন হলে ফোনের IMEI অনুমোদিত হিসেবে সিস্টেমে যুক্ত হয় এবং সিম নেটওয়ার্ক স্বাভাবিকভাবে চালু থাকে। 

ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই সাবধানতার সঙ্গে ফর্ম পূরণ করা জরুরি। IMEI রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে নেটওয়ার্ক ব্লক হওয়ার ভয় থাকে না এবং ফোনটি নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।

IMEI রেজিস্ট্রেশন করতে কত টাকা লাগে?

IMEI রেজিস্ট্রেশন করতে সাধারণত টাকা লাগে না, অর্থাৎ এটি বাংলাদেশে বিনামূল্যে করা যায়। BTRC বা অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে ফোনের IMEI নম্বর সাবমিট করলে আপনাকে খরচ হিসেবে কোনো ফি দিতে হয় না। তবে, কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ থাকতে পারে। যেমন-

  • বিদেশ থেকে আনা ফোনের জন্য কাস্টমস ফি বা ট্যাক্স- যদি আপনি ফোনটি বিদেশ থেকে আনেন, তাহলে কাস্টমস‑এ টাকা দিতে হতে পারে—যা Government নির্ধারণ করে থাকে।

  • জরুরি ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বা নেওয়া হলে- অনৈতিকভাবে কেউ আপনাকে সাহায্য করার নাম করে টাকা চাইতে পারে—যেটা করা উচিত নয়।

সোজা কথায় বলা চলে, সরকারি নিয়মে IMEI রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ ফ্রি। যদি কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে টাকা চাইলে সেটা হচ্ছে অসৎ অনুচ্ছেদ। তাই শুধুমাত্র অফিসিয়াল চ্যানেল ও সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও সস্তা উপায়।

IMEI ব্লক হলে কীভাবে আনব্লক করা যাবে?

IMEI ব্লক হয়ে গেলে সেটি আনব্লক করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে হয়। প্রথমে জানতে হবে কেন IMEI ব্লক হয়েছে— ফোন চুরি হিসেবে রিপোর্ট হওয়া, রেজিস্ট্রেশন না থাকা, ডুপ্লিকেট IMEI বা কাগজপত্রের ঘাটতি এর সাধারণ কারণ। 

যদি ফোনটি বৈধভাবে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে ক্রয়ের রসিদ, ফোনের বক্স, পাসপোর্ট (বিদেশ থেকে আনা হলে) ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এরপর BTRC‑এর নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে আনব্লক করার আবেদন করতে হয়। 

আবেদন জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করে দেখে। সব তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে IMEI আবার সক্রিয় করা হয় এবং সিম নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে চালু হয়ে যায়। 

তবে, যদি ফোনে নকল বা ডুপ্লিকেট IMEI থাকে, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আনব্লক করা সম্ভব হয় না। তাই শুরু থেকেই বৈধ IMEI‑যুক্ত ফোন ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

IMEI ছাড়া ফোন কেনা কি নিরাপদ?

IMEI ছাড়া ফোন কেনা মোটেও নিরাপদ নয় এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। এ ধরনের ফোন প্রথমে কম দামে আকর্ষণীয় মনে হলেও ব্যবহার শুরু করার কিছুদিন পরই নানা জটিলতা দেখা দেয়। 

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—যেকোনো সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ফলে কল, এসএমএস ও মোবাইল ডাটা ব্যবহার অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অপারেটর বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ফোনটি ব্লক করে দেয়। 

এছাড়া IMEI ছাড়া ফোন হারিয়ে গেলে সেটি ট্র্যাক বা ব্লক করার সুযোগ থাকে না, যা ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই ফোন বিক্রি করা, সার্ভিস সেন্টার থেকে সহায়তা নেওয়া বা অফিসিয়াল আপডেট পাওয়াও কঠিন হয়ে যায়। 

তাই অল্প টাকার লোভে পড়ে IMEI ছাড়া ফোন কেনার বদলে বৈধ IMEI‑যুক্ত ও রেজিস্ট্রেশন করা ফোন কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।

শেষ কথা- IMEI সম্পর্কে আপডেট তথ্য ২০২৬

সব দিক বিবেচনা করলে স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, IMEI মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। IMEI ছাড়া ফোনে সিম নেটওয়ার্ক কাজ করে না, যে কোনো সময় ফোন ব্লক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং ভবিষ্যতে নানা ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

বিদেশ থেকে আনা ফোন, ডুপ্লিকেট বা নকল IMEI‑যুক্ত ডিভাইস—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর জন্য ঝামেলা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। যদিও WiFi দিয়ে সীমিতভাবে ফোন চালানো সম্ভব, তবে তা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নয়। 

তাই, নিরাপদ, ঝামেলামুক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য বৈধ IMEI‑যুক্ত এবং রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল ফোন ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। শুরুতেই সচেতন হলে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি থেকে সহজেই বাঁচা যায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url